নিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল ১২শ’ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার একদিন পর সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে যুবলীগের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শাকিলকে সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সামনে রিশান গ্রুপ নামে একটি বিশাল অফিস স্থাপন করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন যুবলীগ নেতা ডিজে শাকিল। তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি এবং ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দিয়েছেন জাল নিয়োগপত্র ও জাল চেক। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন শত শত মানুষ। বুধবার বিকেলে ওই কার্যালয় থেকে ডিজে শাকিলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ।

এ সময় তাদের কার্যালয় থেকে ১২শ’ এক কোটি বাহাত্তর লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া চেক, সামরিক বাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভুয়া পরিচয়পত্রসহ জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

প্রতারণার কাজে শাকিল ব্যবহার করতেন ২২টি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বেশ কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ। আর সেসব মাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুঁইয়েছেন বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলসহ বেশ কটি জেলার শতাধিক তরুণ। এ ঘটনার একদিন পর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, সরকারি চাকরি বা ঋণ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে শাকিল বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন গত কয়েক বছরে। বুধবার তার অফিস থেকেই জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকার চেকসহ বিভিন্ন দপ্তরের ভুয়া নিয়োগপত্র ‌আর এসব জাল নথি তৈরির সরঞ্জাম। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় প্রতারণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল কথিত রিশান ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের চেযারম্যান। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে শুরু করে বেসরকারি ব্যাংক-বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ দেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দিতেও সিদ্ধহস্ত এই ব্যক্তি নিজেকে পরিচয় দেন যুবলীগ নেতা হিসেবে। তার এসব নিয়োগপত্র আর ঋণের চেক দেখে সহজে বোঝার উপায় নেই এর সবই ভূয়া।

এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লোন সার্ভিস নামের এই ফেসবুক পেজে এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ঋণ পাবার আশায় বগুড়ার আমায়রা এগ্রোফার্মের মালিক আমানতউল্লাহ তারেক ও অভি এগ্রোফার্মের মালিক আশিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কমিশনের মাধ্যমে তাদেরকে পাঁচ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েক দফায় ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ডিজে শাকিল।

এরপর তাদেরকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং সাড়ে চার কোটি টাকার দু’টি চেকের স্ক্যান কপি মেইলে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও চেকের মূল কপি না দেওয়ায় তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং চেকগুলো ভুয়া। পরে তারা বিষয়টি বগুড়া জেলা পুলিশকে জানালে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাড়াশে অভিযান চালায়।

প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল (৩২), তার সহযোগী আইটি বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন কবির (২৮) ও ম্যানেজার হারুনার রশিদ (২৬)সহ তিনজনকে।