নিউজ ডেস্ক: দেশব্যাপী বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফকে হত্যার মামলার রায়ে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার এই মামলায় চার আসামি খালাস পেয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যার মামলার রায়ে অভিযুক্ত দশজনের মধ্যে নয়জন আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি, ফরাজি, সিফাত, রাব্বি, হৃদয় ও হাসান। আর এছাড়া বহুল আলোচিত এই মামলাটিতে প্রাপ্তবয়স্ক দশজনের রায় ঘোষণা চলছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান। এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

এ লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

এছাড়া রিফাতের স্ত্রী মিন্নি প্রথমে মামলাটির প্রধান সাক্ষী ছিলেন। প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার সময় তিনি সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাকে আসামি করা হয়। চার্জশিটে মামলাটির সাত নম্বর আসামি তিনি।