নিউজ ডেস্ক: নাটোরে লালপুরের ঋণ ও দাদন ব্যবসায় ফাঁসিয়ে দিয়ে কয়েক লক্ষ হাতিয়ে নেয়া ও কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের প্রবাসী মেম্বার কালাম আজাদের সম্মানীসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বহিস্কৃত কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজাকে স্থায়ী বহিষ্কার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের গোধরা এলাকায় প্রবাসে থাকা ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী মাসুদা খাতুন। এ সময় প্রবাসে থাকা ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ স্কাইপিতে যোগ দিয়ে ক্ষতিপূরণ ও চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিচার দাবি করে দেশে ফেরার আকুতি জানান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসকান্দর মির্জা, সহ-প্রচার সম্পাদক মীর আব্দুল মান্নান, আব্দুল কুদ্দুসসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কদিমচিলান ইউনিয়নে সাইনবোর্ড দেখিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট, বয়স্ক, মাতৃকালীন ভাতা ও বিধবা ভাতায় আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদা খাতুন বলেন, ২০১৬ সালে মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অর্থ যোগান দিতে চেয়ারম্যান সেলিম রেজা তার স্বামীকে দিয়ে অপর মেম্বার শফিকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাদন হিসাবে নিয়ে তা প্রকল্পের খরচ বাবদ আত্মসাত করেন। পরে সেই দাদন নেয়া টাকার সুদসহ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা গ্রাম্য সালিসে স্টাম্পের মাধ্যমে চুক্তি করে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিয়ে নেন চেয়ারম্যান। এতে নিঃস্ব আবুল কালাম সংসারের খরচ মেটাতে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর প্রবাসে পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

এদিকে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রবাসে থাকার বিষয়টি চেয়ারম্যান গোপন রেখে মেম্বারের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রকল্পে তাকে সভাপতি দেখিয়ে দুর্নীতি করে সকল টাকা আত্মসাত করে আসছেন। গত মাসেও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রকল্প সভাপতি হিসাবে সেই টাকা উত্তোলন করেছেন এমন অভিযোগে সেলিম রেজা সাময়িক বহিস্কার হয়েছেন।

অন্যদিকে আবুল কালামের পরিবারের দাবি, সেলিম রেজাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে সকল দুর্নীতির তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। এছাড়া তাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তারও ক্ষতি পূরণের দাবি করেন মাসুদা খাতুন।

এ সময় স্কাইপিতে যোগ দিয়ে প্রবাসে থাকা আবুল কালাম আজাদ জানান, চেয়ারম্যানের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া তার নামে কৃষি ব্যাংকের একাউন্টের চেক চেয়ারম্যানের কাছে থাকায়, তা দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা তুলে আত্মসাত করেছেন অভিযোগ করেন তিনি। তাই দেশে আসার নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।