নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জামিরুল ইসলামকে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লালপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বিরোপাড়ে নিজ বাসার সামনের রাস্তায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মরদেহ লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিহত জামিরুল ইসলাম উপজেলার বিরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বিরোপাড়া নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ বাজারে আসার সময় ৮-১০ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা জামিরুলকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহতের বাবা কামরুজ্জামান জানান, বেলা ১টার দিকে জামিরুল তাকে বাজারের ব্যাগ দিয়ে জোহরের নামাজের জন্য মসজিদে যাচ্ছেন বলে চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পান জামিরুলকে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে গেছে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে লালপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হাসপাতালে ছুটে এসে দেখেন তার ছেলে মারা গেছে।

নিহতের বড় ভাই মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের ৪ ভাইয়ের মধ্যে জামিরুল সবার ছোট। হত্যার ঘটনায় পরিবারের সাথে আলোচনা করে লালপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত জামিরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, বুক, পিঠসহ সারা শরীরে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে বেলা ১.২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

লালপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, গোপালপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামিরুল দুপুরে তার বিরোপাড়া এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে জোহরের নামাজ পড়ার জন্য পার্শ্ববর্তী মসজিদে যাচ্ছিলেন। এসময় একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির কাছেই তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন জামিরুলকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল আরো জানান, কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে তা উদঘাটনসহ হত্যার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।