নিউজ ডেস্ক: নাটোরের লালপুরে রুমা খাতুন (৩০) নামের এক শিক্ষিকাকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার প্রধান আসামি মতলেব আলীকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোররাতে কুষ্টিয়া হতে তার নিকট আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার সময় উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের ঈশ্বরপাড়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা জানান, শনিবার প্রধান আসামি মতলেব আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রশাসনে কর্মরত থাকায় মামলার অন্যতম আসামি এনামুল হক রানা এখনো ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছেন। তবে লালপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা সাংবাদিকদের জানান, এনামুল হক রানা এ ঘটনায় জড়িত নাই।

প্রসঙ্গত, মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) বিকেলে রুমা তার নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। এসময় একই এলাকার মতলেব আলী, এনামুল হক রানা ও শফিকুল ইসলাম অনুমতি ছাড়াই তার বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিকে কোপাতে শুরু করেন। তারা মাথায় কোপ তুললে বাম হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে রুমা খাতুনের ৩টি আঙ্গুল কেটে যায়। তারা পুনরায় রুমার পিঠে ও হাটুতে কোপ দেয়। এতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

এজহারে আরো উল্লেখ করা হয়, এসময় তারা রুমার পেটেও আঘাত করে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মতলেব আলী হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রুমা খাতুনকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর স্বামী বাদশা আলম ৩ জনকে আসামি করে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।