নিউজ ডেস্ক: নাটোরের লালপুরে সরকারি গাছ কর্তনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া নাটোর জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার ও তার সঙ্গীদের উপর হামলা করেছে গাছ কর্তনকারীরা।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) লালপুর থানায় হায়দার আলী বাদি হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের আট্টিকা-গন্ডবিল রাস্তার আট্টিকা গ্রামে গত সোমবার (৬ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা নাটোর জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার তন্ময়, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো লালপুরের কেয়ারটেকার মুজাহিদ, তদন্ত টিমের ডাকে ঘটনাস্থলে যাওয়া বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হায়দার আলী ও তার সঙ্গী উধনপাড়া গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে আব্দুস সালামকে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও মারপিট করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের আট্টিকা-গন্ডবিল সড়কের ২টি শিশু ও জাম গাছ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আট্টিকা গ্রামের আজিজুল আলম মক্কেল মাস্টারের ভাই আব্দুল মান্নান ওরফে মটর গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাছ কাটার চেষ্টাকালে খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ গাছ দুটির ক্রেতা রুলুকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।

এ সময় গাছ দুটির বিক্রেতা আব্দুল মান্নান মটর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গাছের মালিকানা নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি গাছ না কাটার শর্তে রুলুকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ নিষেধ অমান্য করে গত রোববার (৫ জুলাই) গাছ দুটি কেটে নেন আব্দুল মান্নান মটর।

খবর পেয়ে পরের দিন ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার। কথোপকথোনের এক পর্যায়ে সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলমের ছেলে আসাদুজ্জামান বাবু জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার তন্ময় ও ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে মারপিট শুরু করলে বাকী সঙ্গীরা তাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়।

এ সময় গাছ কর্তনকারী আব্দুল মান্নান মটর, সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম, সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে আব্দুল আলীম, আমিনুল ইসলাম পলাশ, সাবেক চেয়ারম্যানের ভাই মহাসিন আলীর ছেলে মুনজুর রহমান ও জাকির হোসেন মিন্টু তাদের সকলকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। নিজেদের রক্ষার্থে ঘটনাস্থল থেকে সার্ভেয়ার সহ বাকীরা চুপচাপ চলে যান।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার তন্ময় জানান, পুরো ঘটনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ তহসিলদার ইউসুফ আলী জানান, রাস্তা পাশ্ববর্তী জমির মালিক গাছটি নিজের জমিতে দাবি করেন। সরকারী সার্ভেয়ার দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারন করা দরকার।

এ ব্যাপারে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, বিষয়টি শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে নাটোর জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী খন্দকার ফরহাদ আহমেদের সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।