নিউজ ডেস্ক: করোনা মহামারীর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরেক দফা বাড়ানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে বুধবার এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

এই ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ছাড়াও আরো যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি তো বাড়াতে হবে, তারিখটা আপনাদের জানিয়ে দেব। করোনার সময়ে ধাপে ধাপে আমরা ছুটি বাড়িয়েছি। এটি ছাড়া তো সম্ভব ছিলো না। ধাপে ধাপে বাড়ানো ছাড়া একসাথে অনেক ছুটি বাড়ানোর যুক্তি নেই। শিক্ষার্থীরাতো অনলাইনে পড়াশুনা করছেন, তাদের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ আছে। আমরা চাই দ্রুত সব ঠিক হোক, দ্রুত আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চাই।

‘ও’ লেভেলের পরীক্ষার ব্যাপারে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘ও’ লেভেলের প্রতিদিন ১৮০০ পরীক্ষার্থী। সেখানে মোট ৬ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের ৩৫টির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্রে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের কাজ করা অনেক সহজ হবে। তাদের সব শর্তই দেয়া হয়েছে। এবং যারা অক্টোবরের মধ্যে দিতে না পারবে, নারা মে মাসের আগে আর দিতে পারবেন না।

কওমি মাদ্রাসা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসা খোলার বিষয়ে একটি অন্যতম বিষয় তারা অনেকটাই আবাসিক। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছে। সেজন্যই তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার স্বার্থে তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যাতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে অনেক সমস্যা হয়। সারাদেশে এতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাদের অনেক ধরনের সমস্যা থাকে। এটি নিয়ে একটি নীতিমালা হচ্ছে। সেটি চূড়ান্ত করতে একটি সংসদীয় উপকমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে। এর মধ্যে গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে তা স্থগিত রয়েছে। বছর প্রায় শেষ হয়ে আসায় এ পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

মহামারীর কারণে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা নেবে না সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে উপরের শ্রেণিতে তোলার কথা রয়েছে। তবে চারটি শর্ত দিয়ে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালনায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার।