নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে দল বা জোট সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পাবে বলে উল্লেখ করে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের তফসিল আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন অন্যতম রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, ৫০টি আসনের মধ্যে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পেতে পারে সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরাও প্রস্তুতি শুরু করেছি।

মোখলেসুর রহমান জানান, কমিশন সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল ঘোষণার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেবেন।

এদিকে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ৩০ জানুয়ারি। সব কিছু দ্রুত শেষ হলে এ অধিবেশনেই সংরক্ষিত নারী সাংসদরা যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

জানা জায়, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ জানুয়ারি ভোটের ফলাফলে ২৯৮ আসনের নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি আসন, বিএনপি ৫টি আসন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, গণফোরাম ২টি, বিকল্পধারা ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জেপি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসন পেয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুনভোটের পর বিএনপি আরও একটি আসন পেয়েছে গত বুধবার। ৩০০ আসনের মধ্যে আটকে থাকা গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের জন্য কমিশন দল ও জোটওয়ারি তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টানিয়ে দেবে। দল বা জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে চিঠিও দেবে ইসি সচিবালয়।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, ৩০০ আসনের বিপরীতে ৫০ সংরক্ষিত আসন দল বা জোটের অনুকূলে আসন বণ্টন করা হবে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে প্রতি আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসন দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১৬৭টি।

নির্বাচন পরিচালনা শাখা জানায়, ভোটের জন্য একটি দিন রাখা হলেও ফল জানা যায় তার আগেই। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে দল ও জোটগতভাবে সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে বলে প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসাবে শপথগ্রহণকারী ব্যক্তিরাই সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন।

শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি সচিবালয়ে সংসদ সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠায় সংসদ সচিবালয়। তফসিল ঘোষণার আগে একাদশ সংসদের দল ও জোটভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি। ভোটের তারিখের আগদিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা সংশোধন করে হালনাগাদ করতে পারবে ইসি।

গত বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চার জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা স্পিকারের কাছেও পাঠিয়েছেন।