বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১০ নং চৌগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিকে নীতি নৈতিকতা বর্জিত, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গঠনতন্ত্র মোতাবেক দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চৌগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাব হোসেন জিন্নাহ ও সাধারণ সম্পাদক বারিক হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওহিদুর রহমান শেখ জানান, শুক্রবার তিনি বহিস্কারের সুপারিশ পেয়ে চিঠি পেয়েছেন। গঠনতন্ত্র মোতাবেক যথাযথ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, নাটোরের সিংড়ার বিএনপির অংঙ্গ সংগঠন যুবদলের ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ২০১২ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এতেই তিনি পেয়ে যান আলাদীনের যাদুর চেরাগ। নসিমন চালক থেকে মাত্র ৮ বছরে আজ তিনি কোটিপতি।

এলাকায় তার ত্রাসের রাজত্ব। পুকুর দখল, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ অপকর্মে জড়িত যুবদল থেকে আসা চৌগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে। গত বছরের ১০ অক্টোবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ চাইলেও তাকে দেয়া হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।

সম্প্রতি জমি নিয়ে বিরোধে রবি ও তার সহযোগীরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী শিল্পীকে। এ ঘটনায় রবিকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নামে সিংড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের মেয়ে মোছাঃ ইতি খাতুন। মামলায় আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় রবিউল ইসলাম রবি নাটোরের সিংড়ার চৌগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং এলাকায় নসিমন (ভটভটি) চালিয়ে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু ২০১২ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

রাতারাতি বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে যান তিনি। সুদে কারবারি, পুকুর দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পরেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে চৌগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার আলী হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, চৌগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আবুল বাসার শিপলুকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুর দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছিলেন রবি। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শরীরে নিরানব্বইটি সেলাই দিতে হয় এবং তাকে দীর্ঘদিন সেই যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকার কারণে সে মামলা থেকে রেহাই পায়। পরে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে আবার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। আর এসব হাইব্রিড ও সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ নেতার কারণে আজ ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়তই নির্যাতিত হচ্ছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান মিলন বলেন, গত বছরে রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল ওয়াদুদ দুদু বলেন, আমার একটি পুকুর প্রায় ৭ বছর ধরে দখল করে রেখেছে রবিউল ইসলাম রবি। এক সময়ের নসিমন চালক রবি এখন কোটিপতি, সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বর্তমানে দুটি ট্রাকসহ অনেক সম্পত্তির মালিক রবি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রবির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, হত্যার পর থেকেই আসামি রবিউল ইসলাম রবি পলাতক রয়েছে, তবে তাকে আটকের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চৌগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মৃত ইদ্রিস আলী মন্ডলের স্ত্রী শিল্পীকে হত্যা করে পালিয়ে যান রবিউল ইসলাম রবি। রবির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় হত্যা, মারপিটসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ ও মো. আবু জাফর সিদ্দিকী