বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের সিংড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে আত্রাই নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকা। এর মধ্যে কলম ইউনিয়নের পার সাঔল স্কুল সংলগ্ন এলাকা, চামারী ইউনিয়নের হোলাইগাড়ি বাজার ও বিলদহর বাজার সংলগ্ন নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী বিলদহর হাট। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসে। দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এই হাটে আসেন। এই হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় বাজার। সপ্তাহে প্রতিদিন বাজারে বিপুল পরিমান মানুষের সমাগম। বর্ষার সময় নৌকা যোগে অনেকে বিলদহর বাজার ও হাটে আসেন। এই হাট থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়। হাটের সাথে রয়েছে পোস্ট অফিস, মসজিদ, ব্যাংক এবং বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নদী তীরবর্তী রয়েছে কয়েকটি গ্রাম।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় হাট ইজারাদার আঃ মমিন মন্ডল জানান, চলনবিলের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখানে ছুটে আসেন। বর্ষায় শত শত মানুষ প্রতিদিন নৌকা যোগে এই হাটে আসেন। প্রতি বছর নদীর তীরবর্তী এলাকা ভেঙ্গে নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙ্গণের কারণে বিলদহরের ঐতিহ্য বিলীন হতে চলেছে। এই ঐতিহ্য ফিরে আনতে নদীর পারে বাঁধ নির্মাণ করা দরকার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রুহুল আমিন জানান, বিলদহর গ্রাম প্রাচীন গ্রাম। হাটের সুনাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর ভেঙ্গে যাওয়ায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে। তাছাড়া বাঁধ না থাকায় নদীর তীরে নোংরা আবর্জনায় পরিবেশ দুষন ঘটছে। এ জন্য বাঁধ নির্মাণ এবং বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা জানান, বিলদহর হাট ঐতিহ্যের হাট। ভাঙ্গন রোধ এবং হাটের প্রাণ ফিরে আনতে হলে বাঁধ নির্মাণ খুবই জরুরি। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির মাধ্যমে আমরা এ বিষয়ে কার্যকরী সমাধান পাবো বলে আশা করি।

বিলদহর, হোলাইগাড়ি, সাঔল স্কুল পরিদর্শন করেছি মন্তব্য করে উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আল মামুন জানান, সিংড়া উপজেলা ৪ টি নদীতে ঘেরা। নদী তীরবর্তী এলাকা বিধায় বন্যার সময় পাউবো সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। এবারো বন্যায় কয়েকটি বাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। এ জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো বলে জানান তিনি।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ