নিউজ ডেস্ক: নাটোরের সিংড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর পুত্র আশিক ইকবাল। তিনি সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। আহত আশিক ইকবালকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় জনতা ধাওয়া করে মুন্নাফ, হাসেম ও রবিউল নামে তিন হামলাকারীকে গণধোলাই দিয়েছে। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করেছে।

আশিক ইকবালের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নাটোরের সিংড়ার সাবেক সংসদ সদস্যের পুত্র আশিক ইকবাল ব্যবসায়িক কাজে সিংড়া উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন রণবাঘা এলাকায় যান। সেখানে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কয়েকজন যুবক হঠাৎ লোহার রড, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় আশিক ইকবালের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করে তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ আগস্ট সিংড়ায় ১৫ ও ২১ আগস্ট নিহত শহীদদের স্মরণসভার আয়োজন করে সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। সেই স্মরণসভায় সাবেক এমপি ছেলে আশিক ইকবালের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এতে সুকাশ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলীসহ তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া সম্প্রতি লক্ষীখোলা গ্রামে আওয়ামী লীগকর্মী শরিফুলের জমির ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে আব্দুল লতিফের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সিংড়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রনবাঘা মাছ বাজারে আশিক ইকবালের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ সময় তাকে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা এবং হাত ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে হামলাকারী আওয়ামী লীগকর্মীদের আটক করে পুলিশে দেয়।

সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলী বলেন, তাদের গ্রামের লোকদের মারধরের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আটককৃতরা আওয়ামী লীগের কর্মী হলেও আমার লোক না। আমি কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, স্মরণসভায় আশিক ইকবালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এর জের ধরেই বিতর্কিত কমিটির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলী হুকুমে নামধারী আওয়ামী লীগের কর্মীরা এ হামলা করেছে।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবির বলেন, মারপিটের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে।