সিংড়ায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চলতি ইরি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে গভীর ও অগভীর নলকুপের অতিরিক্ত সেচমুল্য আদায়ের প্রতিবাদে সেচকাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিংড়া উপজেলার ২ নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গাঁও ও রঘুকদমা গ্রামের মাঠে কৃষকরা এই সমাবেশ করেন। এতে অংশ নেনবড়গাঁও, রঘু কদমা, হাতিয়ান দিঘী, ছাতুয়া, মষিগারী, তাড়াই, বড়ই চড়া সহ ৭ গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, সিংড়া উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখীর আওতাধীন ৭ গ্রামের মাঠ জুড়ে প্রায় ২শত একর জমিতে ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন গভীর নলকূপের সেচমূল্য প্রতি ঘন্টায় ১২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। পুরো মৌসুম প্রতি বিঘা জমির সেচমুল্য নির্ধারণ হয়েছে ১হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের তত্বাবধানে থাকা মালিক পক্ষের অপারেটররা তা মানছেন না। তাঁরা এই তথ্য গোপন করে কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ শত থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সেচমুল্য আদায় করছেন। অর্থাৎ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘায় ১৩০০টাকা থেকে ১৫০০টাকা অতিরিক্ত সেচমুল্য নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাতিয়ান দিঘী মাঠের গভীর নলকূপের অপারেটর শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সেচমূল্য নিলে আমাদের কোন লাভ থাকে না। কৃষকদের কাছ থেকে ২৬০০-২৮০০টাকা চাইলেও তারা ২৫০০ টাকার বেশি দেয় না।

রঘু কদমা মাঠের অপারেটর মতিন সরকার ও হাশেম আলী বলেন, ‘আমাদের এই মাঠের জমি গুলোতে পানি টানে বেশি তাছাড়া আগের চেয়ে বিদ্যুত খরচও বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা এই টাকা নিচ্ছি।’

সিংড়া উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহকারি প্রকৌশলী তহিদুল আলম বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় উপজেলায় মোট ৭৪টি গভীর নলকুপ আছে। এলাকার জমি ভেদে সেচ মুল্য নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার চামারী ও খাজুরা ইউনিয়ন ব্যতীত ডাহিয়া, ইটালী সহ ১০টি ইউনিয়নের মাঠের জমির সেচমূল্য মৌসুমে প্রতি বিঘা ১৫০০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, সেচে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নির্ধারিত সেচমুল্যের চেয়ে কেউ বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।