বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের সিংড়ায় গ্রাম্য মাতব্বরদের অত্যাচারে জনু হোসেন নামে এক ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান নিয়ে পার্শ্ববর্তী ১ নং সুকাশ ইউনিয়ন তেতুলিয়া গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে দীর্ঘ দিন থেকে একঘরে করে রাখা হয়েছে পরিবারটিকে। তাদের সাথে গ্রামের লোকজনের কথা বলা নিষেধ। কথা বললে ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। আগুন, পানি বন্ধ দেয়া যাবে না এমন নির্দেশনা জারি রয়েছে।

এই রায় দিয়েছেন জিয়াপাড়ার বিচারক মৃত মোহাম্মদের ছেলে আঃ মালেক ( ৩২), লোকমানের ছেলে মোঃ ফরিদুল ইসলাম দুদু ( ২৮), মৃত আলতাফের ছেলে ফজলাল ( ৩৫)।

জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে জিয়াপাড়া গ্রামে জনু হোসেন ও জোসনা ভাইবোন ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গোলমাল হয়। এ বিষয়ে আপোষ করার জন্য জিয়াপাড়া গ্রামে সালিসের ব্যবস্থা করা হয়। সালিসে গ্রামের বিচারকগণ জনু হোসেন তার বোনের গায়ে হাত তোলার কারণে ১২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন।

জনু হোসেনের পরিবার জানায়, জোসনা বেগম তার ভাই জনু হোসেনের গায়ে হাত দিয়েছে এটা সবাই জানে। তারপরও তাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ছোট্ট সংসারে একা হয়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার মতো সামর্থ তার নাই। তাই তিনি একা ১২ হাজার টাকা দিতে রাজি হননি। তবে দু’পক্ষ হতে জরিমানা ১২ হাজার টাকা জরিমানা ধরলে রাজি ছিলেন। আর শুধু একার কেন ধরবে জরিমানা, অপরাধী দুইজন ই দরকার হইলে দু’জনের কাছ হতে ৬ হাজার টাকা করে নিতে পারতো।

এই কথা বলার পরেই জনু হোসেন ও তার পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়। জনু হোসেন ও জনুর পরিবার নিরুপায় হয়ে তেতুলিয়া গ্রামে এক মুরগীর খামারকে বসবাসের স্থান হিসেবে আশ্রয় নিয়ে আছে। মুরগীর খামারে মুরগীর ব্যাবসা অল্প দিনেই করবে খামারের মালিক। কিন্তু জনুর পরিবার আশ্রয়ের কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এমন কি জিয়াপাড়া গ্রামে ২/৩ বিঘা জমি আছে আবাদ করতেও পারছেন না।

এদিকে এলাকাবাসী জানায়, জনু হোসেনের পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। জনু হোসেন গ্রাম ছেড়েছে, তবে সে একজন নিরীহ মানুষ।

এ ব্যাপারে ১ নং সুকাশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ মজিদ বলেন, জনু হোসেনকে একঘরে করে রাখার বিষয়টি আমি কখনো শুনিনি। তবে ঘটনার সত্যটা পাওয়া গেলে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আমি চেষ্টা করবো।