নিজস্ব প্রতিবেদক: চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়ায় ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এই উপজেলার ১ পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ৩৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫ শত ৮৫ মেট্রিক টন ধান।

মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালী রঙের ঝিলিক ছড়াচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সোনালী রঙের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করছে কৃষকরা। গত কয়েকদিন আগের ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও এখনো ভালো ফলন পাবে এই আশায় বুক বেধে আছে কৃষকরা। তবে শেষ মুহূর্তে কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

তাছাড়া ধানের বাজার নিয়েও কৃষকের মাঝে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারলে যে তাদের লোকসান গুনতে হবে। বাজারে নতুন ধানের আমদানি হওয়ায় টুকটাক কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। প্রতিমণ মিনিকেট ধান ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর অন্যান্য জাতের ধানের দাম আরো কম।

dav_soft

চলনবিলের কৃষকরা জানান, ইরি চাষের শুরু হতে প্রতি বিঘা জমিতে ধানের চারা বাবদ চারশ থেকে পাঁচশ টাকা, জমি চাষ করা আটশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, দিনমজুর বাবদ এক থেকে দেড় হাজার টাকা, পানিসেচ বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা, সার (ইউরিয়া, পটাশ, ডেপ, জিপ, কিটনাশক) বাবদ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ও কাটা-মাড়াই বাবদ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তাই ধানের বাজার ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ না থাকলে কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারবে না। গত বছর যে জমিতে ধান হয়েছে ২৪ থেকে ২৬ মণ সেই জমিতে এ বছর ধান পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ।

জমি থেকে কৃষকের খোলায় ধান কেটে আনতে নিচ্ছেন প্রতি মণে ১০ থেকে ১৫ কেজি। অথচ গতবার একই জমিতে নিয়েছেন ৬ থেকে ৮ কেজি।

উপজেলার চৌগ্রাম, জামতলী, শেরকোল, সাঁতপুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটছেন কিন্তু তাদের মনে পাকা ধান কাটার সেই আনন্দ নাই।

বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৫ বিঘা কেটেছি। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৬ মণ। গত বছর এই জমিতে ফলন পেয়েছিলাম ২৩ মণ করে। এখন দেখছি আমার খরচের টাকাই উঠবে না।

চৌগ্রামের কৃষক জয়নুল সরকার বলেন, আমার ৮ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান খুবই খারাপ। কালো চিটা শীষ দেখে এই জমিতে শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের মাঝ খানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম জাতের কিছু জমির মিনিকেট ধানে চিটা হয়েছে। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একক ও দলীয় আলোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এবার আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে তা অর্জিত হবে বলে আশা করছি।