নিজস্ব প্রতিবেদক: সিংড়া উপজেলার চলনবিলের কলম, চামারী, হাতিয়ান্দহ ও চৌগ্রাম ইউনিয়নে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। ফলে কমছে আবাদি জমি। প্রশাসনের নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার হাতিয়ানদহ ইউনিয়নে দেখা যায় ৩শ বিঘা বিল পুকুরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়াও শেরকোল, কলম, চামারী, সুকাশ, ও চৌগ্রাম ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পুকুর খনন করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে পুকুরের মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে সড়কগুলো। তবে এসব খনন বন্ধে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি।

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, চামারীর গুটিয়া বিলে একটি অবৈধ পুকুর খনন হচ্ছে, এই পুকুর খননে খাল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ২ হাজার একর জমি জলাবদ্ধতার শিকার হবে কৃষি জমি। কৃষকদের আবাদি জমি নষ্ট হবে। এতে বোরো, আমন, ইরি ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, শুধু ২০১৮ সালেই উপজেলাব্যাপী ৬৬ হেক্টর জমিতে ১৬৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এ উপজেলায় আর পুকুরের প্রয়োজন নাই। এগুলোতেই ভালভাবে মাছ চাষ করলে মাছের চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ উপজেলায় চাহিদার অতিরিক্ত পুকুর খনন করা হয়েছে। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ আছি কিন্তু এভাবে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হলে একসময় খাদ্যে ঘাটতি দেখা দিবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) মীর আসাদুজ্জামান বলেন, অবৈধ পুকুর খননকারীদের তালিকা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, উপজেলার কয়েক জায়গায় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের জন্য এসিল্যান্ডকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।