নাটোরের সিংড়ায় বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। সিংড়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছবি: মো. আবু জাফর সিদ্দিকী

বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের সিংড়ায় বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। সিংড়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা পরিষদ, থানা, সাব রেজিষ্টার , ভূমি অফিস সিংড়া বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পোস্ট অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যার পানি ঢুকেছে।

সিংড়া-বলিয়াবাড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রবল স্রোতে সড়ক ভেঙ্গে গেছে। শোলাকুড়া মহল্লায় মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা ধসে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বালির বস্তা সরবরাহ নাই বলে জানান স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতি রয়েছে বলে জানান তারা।

সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদীর পানি ১০৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি।

অপরদিকে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পৌরসভার ৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৬ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ সৌঁতিজাল এবং নদীর শাখা প্রশাখায় বাঁধ নির্মাণের ফলে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য তারা পরিকল্পিতভাবে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা বন্যায় ২৫’শ হেক্টর রোপা আমন, ৭ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়াও বন্যায় ভেসে গেছে ১৩’শ পুকুর।

সিংড়া পৌরসভার মেয়র মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বন্যার কারণে পৌর এলাকার মানুষ পানিবন্দি। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে নিজ অর্থায়নে বালির বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, উপকূলীয় এলাকার মত চলনবিলের মানুষেরাও বন্যা কবলিত। এ এলাকার মানুষদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপজেলার সকল সৌঁতি উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে ও বন্যা কবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

কৃতজ্ঞতা: মো. আবু জাফর সিদ্দিকী