নিজস্ব প্রতিবেদক: সিংড়ায় অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে গ্রামের কয়েকজনের উস্কানিতে শাশুড়ির বাড়িতে চুরির নাটক সাজায় জাহাঙ্গীর নামের এক জামাই। অবশেষে চরম নাটকীয়তার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শাশুড়ির বাড়িতেই থাকেন। তাদের পুকুরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় নকুল ও সুশীলের সঙ্গে বিবাদ ছিল। বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের মাথায় আঘাত করেছে মর্মে থানায় মিথ্যা অভিযোগ আনেন জাহাঙ্গীর। এই মিথ্যা অভিযোগ ধোপে টেকেনি। এখানেই থেমে যাননি জাহাঙ্গীর। নকুল ও সুশীলকে হয়রানি করতে জন্ম দিলেন আরেক নাটক। গ্রামের কয়েকজনের উস্কানিতে শাশুড়ির বাড়িতে চুরির নাটক সাজায়।

পুলিশ ও স্থানীয় মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে শাশুড়ি লাইলি বেগম তার নাতনী জান্নাতীকে নিয়ে তার একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাপড় দিয়ে মুখ বাঁধা দুইজন লোক লাইলি বেগমের ঘরে প্রবেশ করে। তারা লাইলি বেগমের নাতনী জান্নাতীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ওই দুইজন লাইলি বেগমকে কিল-ঘুষি মেরে কানের লতি ছিঁড়ে চারআনার একটি সোনার রিং ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিংড়া থানা পুলিশ। জামাই জাহাঙ্গীরের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নকুল ও সুশীলকে ফাঁসানোর চেষ্টায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায় সে।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীরের শাশুড়ি লাইলি বেগম সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।