নিজস্ব প্রতিবেদক: সিংড়ায় ছাত্রলীগের নেতা কামরুল ইসলামকে মারপিটের ঘটনায় নাজমুল হক (পলক) কে চৌগ্রাম এলাকা হতে আটক করেছে সিংড়া থানা পুলিশ। বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তাকে আটক করা হয়। এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিকেলে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ঝাঁড়ু ও বৈঠা মিছিল বের হয়। এছাড়া সিংড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় শেরকোল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা কামরুলকে হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আসন্ন সিংড়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকের পক্ষে ও নৌকা মার্কার প্রচারণা করার অপরাধে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় উপজেলার নিংগইন-জোড়মল্লিাকা ব্রীজ এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আদেশ আলীর কর্মী পলকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ছাত্রলীগ নেতা মো. কামরুল সরকারের ওপর। হামলাকারীরা তার বাম হাত ও পা ভেঙে দেয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রাশেদুল ইসলাম। হামলার শিকার মো. কামরুল সরকার শেরকোল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক। সে শেরকোল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড লীগের সভাপতি আফজাল সরকারের ছেলে।

এদিকে শেরকোল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল সরকারকে মারপিটের প্রতিবাদে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ঝাঁড়ু ও বৈঠা মিছিল বের হয়। এছাড়া বুধবার বিকালে সিংড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় শেরকোল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা কামরুলকে হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সিংড়া উপজেলা পরিষদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, নৌকার দোহাই দিয়ে সিংড়ায় যারা বড় অট্রালিকা করেছে তাঁরাই আজ শেখ হাসিনার সাথে মোনাফিকি করতে চায়। কালকে যারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো আজ তাঁরাই ইট ভাটার মালিক হয়েছেন। যারা এক কলম পড়া লেখা জানে না নৌকার দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনার দোহাই দিয়ে তাঁরা আজ অনেক বড় চেয়ারে বসেছেন।

শফিকুল ইসলাম শফিক আরো বলেন, তৃণমূলের গোপন ভোটের মাধ্যমে আমি ১১১ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা সিংড়ার তৃণমূলের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা রেখে আমাকে নৌকা মার্কা মনোনীত করেছেন। শেখ হাসিনার এই আমানত নৌকা মার্কা নিয়ে যখন আমি তৃণমূলে ভোট প্রার্থনা করছিলাম। পরে আমার সফর সঙ্গী ছাত্রলীগ নেতা কামরুল সরদার যখন একা একা বাড়ি ফিরছিল ঠিক তখনই কামরুলকে শেরকোল ইউনিয়নের এক প্রান্তে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। আমরা কামরুলের উপর হামলাকারীদের বিচার চাই।

যে সকল আওয়ামী লীগ নেতা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাঁরা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথেও বিশ্বাস ঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করে শফিক আরো বলেন, আপনাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সমস্ত মানুষ এই দম বন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। তাই আজকের এই সংগ্রাম শুধু কামরুল হামলার বিচার দাবির সংগ্রাম নয়। আজকের সংগ্রাম সাধারণ মানুষের দম বন্ধের মুক্ত হওয়ার সংগ্রাম। আজকের এই সংগ্রাম আগামী ১০ মার্চ নিবার্চনে বিজয়ী হওয়ার সংগ্রাম। আজকের এই সংগ্রাম শফিককে আবারও চেয়ারম্যান বানানোর সংগ্রাম।

নৌকার প্রতিপক্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আপনারা বঙ্গবন্ধুর কথা বলে শেখ হাসিনার কথা বলে কোটি টাকা বানিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে রাতের বেলা যে ফুর্তি করেন সেই ফুর্তির ১ রাতের টাকা দিয়ে তৃণমুলের আওয়ামী লীগ কর্মীদের ১বছরের সংসার খরচ চলে যায়। সেই সমস্ত শোষণ ও সুবিধা বঞ্চিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা এবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

শফিক বলেন, আমি দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। আপনারা আমাকে ৫ বার ভোট দিয়েছেন। আমি আপনাদের ভোট নিয়ে ৪বার বিজয় হয়েছি। গত নিবার্চনে বিশ্বাস ঘাতকেরা আমার বিপক্ষে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আমি আপনাদের ভোটে সন্মানিত হয়েছি। জেনে রাখবেন শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে যেমন করে নেতা তৈরী করেন তেমনি হাসতে হাসতেই নেতৃত্বও কেড়ে নিতে পারেন। কাদের সিদ্দিকী, কামাল হোসেন ও লতিফ সিদ্দিকরাও ছিলেন শেখ হাসিনার কাছ থেকে যখন সরে গেছেন এখন তাঁদের চার পয়সার দাম নাই।

প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে শফিক বলেন, নাটোরের উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে এমপি শিমুল যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনুরোধ করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রমজানকে বিজয়ী করেছেন আমি আশা করবো ঠিক একইভাবে আমাদের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ এড. জুনাইদ আহমেদ পলক এখানে সেই ভুমিকা রাখবেন। তাঁর প্রতি আমাদের সেই আস্থা ও ভালোবাসা আছে।

সিংড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নয়ন আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ কামরুল হাসান কামরান, শেরকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস দুলাল প্রমুখ।