নিউজ ডেস্ক: দেশব্যাপী বহুল আলোচিত নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অন্যতম দু’জন হলেন দেলোয়ার ও বাদল, যাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, বছরখানেক আগের পেশায় সিএনজিচালক দেলোয়ার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি বনে যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ডন। গড়ে তোলে দেলোয়ার বাহিনী। তারপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই দেলোয়ার। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউ। তাই তাদের আটকের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

এদিকে একটি বাহিনীর প্রধান হয়েও কীভাবে মামলায় নাম নেই। এছাড়া দুই বছর আগের জোড়া হত্যা মামলার আসামি দেলোয়ার। তাহলে কী দেলোয়ার পার পেয়ে যাবেন? এভাবেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এরইমধ্যে ফেসবুকে দেলোয়ার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেকে সরব হয়ে উঠছেন। দেলোয়ার একলাশপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম একলাশপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির সাইদুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে একলাশপুর বাজারের পূর্ব পাশের ভিআইপি রোড এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জোড়া হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হন দেলোয়ার। এরপর স্থানীয় প্রভাবশালী আলমগীর কবির আলো নিজের অবস্থান ধরে রাখতে দেলোয়ারকে জামিনে মুক্ত করে আনেন।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দেলোয়ারকে দিয়েই একটি গ্রুপ তৈরি করেন আলমগীর কবির। সেই গ্রুপে চোর, ছিনতাইকারী, অটোচালক, মাদক সেবনকারী সব একত্রিত হয়। আলমগীর কবির তাদের নিয়ে যায় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

আস্তে আস্তে সেই গ্রুপের সবাই একের পর এক অপকর্ম করতে শুরু করেন। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। বড় বড় নেতাদের ড্রয়িং-রুম থেকে তারা আস্তে আস্তে বেডরুম পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পান। এরপর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন গ্রুপের সদস্যরা।

এদিকে, এ গ্রুপে থেকেই দেলোয়ার আরেকটি গ্রুপ তৈরি করেন। এরপর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসা, হত্যা, যৌন হয়রানিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, বর্বরোচিত এই নারী নির্যাতনের ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় এলেও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন দেলোয়ার ও বাদল। কোনও পদ না থাকলেও অনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে অভিযুক্ত এ দু’জন। তবে আওয়ামী লীগে যোগদান করলেও কোনও পদে না থেকেও তার দাপটে কোণঠাসা ছিলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।

এদিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে থেকেই দেলোয়ার একাধিক খুন ও মাদক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর দুপুরে ঘটনার ৩২ দিন পর নারীকে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ঘটনার পর থেকে ৩২ দিন অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতিত নারীর পরিবারকে কিছুদিন অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে। এতে ঘটনাটি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের অগোচরে থাকে। এর মধ্যে রোববার ওই নারী বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে, অন্যটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। দুই মামলাতেই নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন- বাদল, মো. রহিম, আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্যা। আসামিদের সবার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়।