নিউজ ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড জঘন্য ও নৃশংস ঘটনা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, দেশের সব জনগণের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে সেনাবাহিনীর ৬টি ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদবির সেনা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী তথা দেশমাতৃকার সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, ১৮ বীর, ২০ বীর, ২১ বীর, ২২ বীর এবং ২৩ বীর ওই কালার প্যারেডে অংশগ্রহণ করে এবং সেনাপ্রধানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এটা একটা নৃশংস এবং অত্যন্ত জঘন্যতম ঘটনা। তদন্ত হচ্ছে। আমি সেনাপ্রধান হিসেবে আশা করি যে, তদন্তটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে- যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা সেনাবাহিনীতে কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত কারও সঙ্গে না হয়।’

মামলার তদন্তে সন্তুষ্ট কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত হচ্ছে, তদন্তনাধীন বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। তদন্তে সন্তুষ্ট কি-না এটা এখন বলা যাবে না। এটুকু বলতে পারি, অত্যন্ত জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছে, এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে সেটা দেখি এবং সাজাটা যখন হবে, তখনই সন্তুষ্টির বিষয়টা আসবে। তার আগে সন্তুষ্টির বিষয়ে বলার কোনো সুযোগ নেই।’

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা দেখে আসছি যে, একটা ঘটনা ঘটলে কেউ না কেউ একটা অন্যায্য বিশেষ সুযোগ নিতে চায়। এবারও অনেকে চেষ্টা করেছিল। হয়তো এখনো করছে। এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে; তবে সচেতন মানুষ এগুলো বোঝে। একটা ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই অত্যন্ত নৃশংস, ন্যক্কারজনক ঘটনা। সবাই এ ঘটনার জন্য মর্মাহত।

সিনহা হত্যাকাণ্ড সেনাবাহিনীও তদন্ত করছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অস্বাভাবিক কিছু যদি হয়, সেটা আমাদের অভ্যন্তরে তদন্ত হয়। এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ আমরা দিয়েছিলাম, এটা হচ্ছে।’

সিনহা হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, শুধু সেনাবাহিনীর দিক থেকেই ঘৃণা জানানো হয়নি পুলিশ প্রধানও সেদিন এসেছিলেন। তারাও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সবাই মর্মাহত হয়েছেন এ ঘটনায়। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কেউ যদি অন্য কিছু করার চেষ্টা করে থাকে তা দুঃখজনক এবং সেটা কাঙ্ক্ষিত না।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। এ সময় সিনহার সহকর্মী সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে তাদের আরেক সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) মামলাটির তদন্ত ভার দিয়েছেন। এতে টেকনাফ থানার ওসি (পরে বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত, উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। এর মধ্যে এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দিয়েছেন পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতও। চার দফায় ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে ওসি প্রদীপকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।