নিউজ ডেস্ক: সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভূক্ত ২নং আসামি ও ছাত্রলীগ নেতা তারেকুল ইসলাম তারেক ও ৬নং আসামি ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সিলেট নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আসামিদের মধ্যে তারেকুল ইসলাম তারেককে অতিরিক্ত চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে এবং মাহফুজুর রহমান মাছুমকে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-দ্বিতীয় আদালতে হাজির করা হয়। ওই আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তার জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত শুক্র ও শনিবার মামলার ওপর ছয় আসামির রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হল- সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, মিছবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিন।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাস জোর করে খোলা রাখে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যারাতে এক তরুণী গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে নিজস্ব কারে সিলেটের এমসি কলেজের মেইন গেইটের কাছে এসে নামেন।

এ সময় ছাত্রলীগের ছয় ক্যাডার তাদের জোর করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে মারধরের পর স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাতেই এ ঘটনা জানাজানি হলে সর্বত্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

গণধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনের নামে মামলা করা হয়েছে শাহপরাণ থানায়। একই মামলায় অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। পুলিশ অভিযুক্ত সকলকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর, তারেক, অর্জুন, রবিউল, রনি ও মাসুমকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা হয়। মামলার এজাহারের বাইরে আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়। নগরীর বাইরে পলাতক থাকা অবস্থায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৯।

পরে মামলায় এজাহারভুক্ত ছয়জন আসামিসহ গ্রেফতার হওয়া মোট আটজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় গ্রেফতার ৮ আসামির প্রত্যেককে ধাপে ধাপে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।