ছবি: প্রতীকী

নিউজ ডেস্ক: নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণের এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্র। এমনকি ধর্ষণের তথ্য কাউকে না জানানো ও যখন ডাকা হবে তখনই আসতে হবে, না এলে ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে তারা।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ধারাবাশাইল গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার ঠাণ্ডার মাছের ঘেরের কাছে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টায় মেধাবিকাশ ডিজিটাল স্কুলের সোহাগ স্যারের কাছ থেকে প্রাইভেট পড়ে স্থানীয় চৌধুরীর হাটে কলম কিনতে যাই। এ সময় পূর্ণবর্তী গ্রামের মহসিন হাওলাদার খনুর ছেলে আলী হোসাইন ও একই গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার ঠাণ্ডার ছেলে মাসুদ হাওলাদার আমাকে ভয় দেখিয়ে ধারাবাশাইল গ্রামে অবস্থিত ইব্রাহিম হাওলাদার ঠাণ্ডার মাছের ঘেরের কাছে নিয়ে যায়। এখানে বসে আলী হোসাইন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় আলী হোসাইন আমাকে মারধর করে। তার মারধরের কারণে একটা পর্যায়ে আমি দুর্বল হয়ে পড়লে আলী হোসাইন আমাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার বন্ধু মাসুদ হাওলাদার মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণ করে। আমি এই ধর্ষণের কথা কাউকে বললে বা আগামিতে তাদের কথা না শুনলে এই দৃশ্য ফেসবুকে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

ধর্ষিতার খালু বলেন, ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় আমি কোটালীপাড়ায় থানায় গিয়ে জানাই। কিন্তু এ কয়দিন থানা থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজা হাওলাদার ও সরোয়ার তালুকদার মেয়ের বাবাকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমরা এতে রাজি না হওয়ায় সোমবার কোটালীপাড়া থানা থেকে পুলিশ এসেছিল। খোঁজখবর নিয়েছে।

ধর্ষিতার বড় বোন বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকা তাহলে তো কোনো মেয়ে ভয়ে ঘর থেকে বের হবে না। স্কুল-কলেজে যাবে না। তাই আমি আমার বোনের ধর্ষক ও সহায়তাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

ধর্ষিতার বাবা বলেন, আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে জোর করে ধর্ষণ ও মারপিট করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যাতে করে অন্য কোনো মেয়ে বা বোন এ ঘটনার শিকার না হয়।

অন্যদিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আলী হোসাইনের পিতা দাবি করেন, তার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

এদিকে কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দোষীরা পলাতক রয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আগমীকাল মঙ্গলবার ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।