রোববার (১ ডিসেম্বর) স্পেন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্পেনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদ টোরেজন বিমানবন্দর তাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক সম্মেলন-কপের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের যোগ দিতে স্পেন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১ ডিসেম্বর) স্পেনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদ টোরেজন বিমানবন্দর তাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ। বিশ্ব পর্যটন সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি সুসজ্জিত মোটর শোভা যাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে মাদ্রিদের হোটেল ভিলা ম্যাগনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্পেন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলে অবস্থান করবেন। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে স্পেনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সরকারি সফরে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের উদ্দেশে রবিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রাক্কালে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদের হুইপ, তিনবাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে বিদায় জানান।

জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলন চলবে। ২৫তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অন্তত ২৫ দেশের সরকারপ্রধানরা যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সামনে রোহিঙ্গা সমস্যাও তুলে ধরবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি স্পেনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের অবস্থান বিষয়ক বক্তব্য দেবেন। তিনি জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু সংক্রান্ত ম্যান্ডেট আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাবেন। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের দেশগুলোর প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি, সম্মেলনের দাতা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অঙ্গীকারসহ বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিবেশ ও উদ্বাস্তু সংক্রান্ত বিষয়সমূহ স্থান পাবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অভিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের একত্রিত করে একটি সুনির্দিষ্ট কার্যকর ও অভিন্ন কর্মপন্থা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা অর্জন করা কোপ-২৫ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ওপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কাঠামো প্রণয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ সম্মিলতভাবে মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে এ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সরকারি সফরে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রাক্কালে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদের হুইপ, তিনবাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে বিদায় জানান। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের উপকূলবর্তী যেসব দেশ সবচেয়ে অরক্ষিত ও হুমকির সম্মুখীন, বাংলাদেশ তার অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপকতা এবং এ কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির ভয়াবহতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক আলোচনা এবং নেগোশিয়েসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। স্পেনে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা বিশ্ব দরবারে আরও একবার তুলে ধরা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত প্রতিকূলতাকে জয় করে সহনশীল অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান তৈরি করতে বাংলাদেশ যেসব ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল গ্রহণ করছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, স্পেনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন- উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়াগ, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে তারা মতবিনিময় করবেন। স্পেন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। স্পেন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এবং একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের চতুর্থ বৃহত্তম গন্তব্য। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে অন্যতম বিনিয়োগকারী স্পেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধাদি অবহিত করে স্পেনকে জ্বালানি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুসংহত হবে বলেও আশা করেন মন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পারস্পরিক সহযোগিতা বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, ডেটা প্ল্যান ২১০০ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সোমবার (২ ডিসেম্বর) স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন ঢাকার স্থানীয় সময় বুধবার। এদিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।