নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘সড়কে আর যেন কারও প্রাণহানি না হয় সেজন্য রাস্তার নকশা তৈরির সময়ই সচেতন হতে হবে। যানবাহনের মালিকপক্ষ যদি লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভার নিয়োগ না দেয় তাহলে সড়কে ঝুঁকি কমে আসবে।’

শনিবার (৬ এপ্রিল) নিরাপদ সড়ক চাই’র ৮ম জাতীয় মহাসমাবেশে তিনি একথা জানান। রাজধানীর গুলিস্থানে মহানগর নাট্যমঞ্চে এ মহাসমাবেশের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। সারা দেশের নিরাপদ সড়ক চাই-এর ১২০টি শাখার সদস্যরা সমাবেশে অংশ নেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

পলক আরো বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে। বাস মালিকদের চালক নিয়োগের সময় তার লাইসেন্স চেক করতে হবে। পথচারীদের সচেতন হতে হবে। আর পাঠ্য বইয়ে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সড়ক পরিবহণ আইনের বিষয় সংযুক্ত করা প্রয়োজন’

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, শহরের সব ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর সংযোজন করা হবে। কয়েকদিনের মধ্যে চালকদের ভ্রাম্যমাণ ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হবে। সড়ক ও শহরকে নিরাপদ করার জন্য জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আসতে হবে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করাও প্রয়োজন। এই সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা জানালেন, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষা দিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি । এছাড়া পথচারিদের সুবিধায় কিছু স্থানে ফুট ওভারব্রিজ না রেখে আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে বাস-ট্রাক মালিকদের বিশেষ নির্দেশনা দিলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একজন চালককে প্রশিক্ষণ দিতে মাত্র ১১০০ টাকা খরচ হয়। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারলে প্রাণহানি অনেক কমে যাবে। অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকও জানে না কোন রাস্তায় কতো স্পিডে গাড়ি চালাতে হবে। আমাদের আন্দোলন কোনো চালকের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের আন্দোলন সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে।’

সড়কের ওপর চাপ কমাতে রেলপথ ও নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সড়কের বিষয়ে অনেক আন্তরিক। তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারকে সড়ক দুর্ঘটনাকে এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’