নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পুরান ঢাকার আলোচিত সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধভাবে মজুত মদ, অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

এসময় তার বারান্দায় পাওয়া যায় একটি সোনালি রঙের দূরবীণ। এছাড়া একটি হাড় পাওয়া গেছে। অভিযানে অংশ নেয়া র‌্যাব কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। তবে তা মানুষের হাড় কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে উদ্ধার হওয়া এই হাড় ঘিরে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবদাস লেনে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম অভিযানের নেতৃত্বে দিয়েছেন।

দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের ২৬ নম্বর দেবিদাসঘাট লেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি টর্চার সেলের সন্ধান পায় র‌্যাব। পরবর্তীতে চকবাজারে হাজি সেলিমের মালিকানাধীন মদীনা আশিক টাওয়ারের ১৪ তলায় একটি রুমে আরো একটি টর্চার সেলের সন্ধান পায় র‍্যাব।

এছাড়া এছাড়া ইরফান সেলিমের ভবনের পাশেই একটি টর্চার সেল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। অভিযান চলাকালে সেখানে হ্যান্ডকাপ পাওয়া গেছে। এছাড়া একজন মানুষকে নির্যাতন করার মতো যে উপকরণ থাকা দরকার সেরকম কিছু উপকরণও রয়েছে। এরমধ্যে আছে দড়ি, গামছা, ছোরা, হকিস্টিট উদ্ধার হয়েছে।

জানা গেছে, সাদা রঙের নয়তলা এ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় থাকেন হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম। তার প্রতিটি রুমের বারান্দায়ই বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্রে সজ্জিত। এর মধ্যে তৃতীয় তলার একটি বারান্দায় রয়েছে নজরকাড়া সোনালি রঙের এই দূরবীণ। এ দূরবীণের মাধ্যমেই এরফান সেলিম এলাকার আশেপাশের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখতেন।

র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সাদা রঙের নয়তলা এ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া, বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজ এখনো দেখাতে পারেননি। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সোয়ারি ঘাট এলাকায় এমপি হাজী সেলিমের একটি বাড়ি আছে, সেটা ঘেরাও করে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া র‌্যাব সদস্যরা হাজী সেলিমের ছেলে এরফানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, এরফান যে ঘরে থাকতেন সেখান থেকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, ৫-৬ লিটার মদ ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে পাওয়া গেছে বেশ কিছু বিয়ারের ক্যান।

এর পর বাড়িতে অভিযান শেষ না হতেই রাজধানীর মৌলভীবাজার এলাকায় হাজী সেলিমের দখলে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের জায়গা উদ্ধার করেছে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। সেদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও ২৬ অক্টোবর ভোরে হাজী সেলিমের ছেলেসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ।

মামলায় এমপি হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম (৩৭), তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ (৩৫), হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু (৪৫), গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ (৩০) অজ্ঞাতপরিচয়ের দু-তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে স্টিকার লাগানো কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এরপর ওই কর্মকর্তা সড়কের পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু গাড়ি থেকে আসামিরা বের হয়ে তাকে অপদস্থ ও কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করেন। পরে তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে তারা নিজেদের গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই গাড়ি ও নৌ বাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল দুটোই ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর অফিসারের স্ত্রী কর্তৃক স্থানীয় জনতা ও পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডি থানার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় অফিসারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।