নিউজ ডেস্ক: নৌবাহিনীর অফিসারকে মারধরের মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এছাড়া র‌্যাবের ৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অবৈধভাবে মজুত মদ, অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাজী সেলিমের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ। এর আগে সোমবার দুপুর ১টার দিকে পুরান ঢাকায় চকবাজার দেবিদাস ঘাট লেনের বাসভবনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাব সবসময় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে থাকে উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অভিযানে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন, র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা টিম রয়েছে। এছাড়া র‌্যাব-৩ ও ১০ এর সদস্যরা রয়েছেন। আমাদের সদস্যরা এখনও কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা প্রবাহের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট কেন এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, কোথায় অভিযান চালাতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করতে হয়। সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসেছেন। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা বলেন, র‌্যাবের সদস্যরা হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান, তার দেহরক্ষী জাহিদ, গাড়ি চালক মিজানুর রহমানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে র‌্যাবের একটি দল হাজী সেলিমের ছেলেকে গ্রেফতার করতে তার বাসায় তল্লাশি চালায়। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছিলেন, হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ এরফান সেলিমসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের খুঁজছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কলাবাগানে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাজী সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে আজ সোমবার ভোরে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওয়াসিফ আহমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, রোববার রাতে নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান।

কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’−এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) রবিউল ইসলাম এ মামলার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন ইরফান সেলিম, এ বি সিদ্দিক দীপু, জাহিদ, মীজানুর রহমান ও অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজন ব্যক্তি। এর মধ্যে আগেই দেহরক্ষী জাহিদ, গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে আগেই আটক করা হয়েছে। পরে গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।