নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং হেফজখানার শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আগামী ১২ জুলাই থেকে হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং হেফজখানার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুমতির কথা জানানো হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আবেদনের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহা. আবুল কালাম আযাদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) এর প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং হিফজখানার কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র হাফিজিয়া মাদ্রাসা/ হিফজখানার কার্যক্রম আগামী ১২ জুলাই থেকে চালু করার অনুমতি প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ২৬ মার্চ থেকে দেশের সাধারণ ছুটি শুরু হয়, বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরে দফায় দফায় বেড়ে ৩০ জুন সাধারণ ছুটি শেষ হয়। ঈদুল ফিতরের পর থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন আলেমরা।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এতদিন সে অনুমতি পাওয়া যায় নি। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুবিধার্থে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কওমি মাদ্রাসার অফিস খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় আসন্ন কোরবানির ঈদের আগেই সীমিত পরিসরে হলেও কওমি মাদ্রাসা খোলার আবেদন জানান তারা।

জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি ড. মাওলানা মুশতাকের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা মুজিবুর রহমান। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের হিফজ মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো সরকার।