নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত আমির, শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘হেফাজত বাঘও নয়, সিংহও নয়’ মন্তব্য করে বাবুনগরী বলেন, ‘সংগঠনটি (হেফাজত) সরকারবিরোধী নয়, আবার সরকারদলীয়ও নয়। নামাজ, রোজা, হজ-জাকাত হলো হেফাজতের কর্মসূচি। হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়। যারা ইসলামের শত্রু, রাসুলের দুশমন; নাস্তিক-মুরতাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয়।’

শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে নগরের রেজিস্টারি মাঠে আয়োজিত গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস, সিলেটে হোটেলসমূহে মদের অনুমোদন বাতিল ও মাদকের অবাধ ছড়াছড়ি বন্ধ এবং রায়হান হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি সম্বলিত তিন দফা দাবি পেশ করা হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমির অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আকুনী, নায়েবে আমির আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকীব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাবেশের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন সমাবেশের অন্য আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, যারা ইসলামের শত্রু, রাসূল (সা.) এর দুশমন তাদের কবর রচনার জন্য, নাস্তিক-মুর্তাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয়। সমস্ত মসজিদের মুসল্লিরা হেফাজতের সদস্য, সকল মসজিদের ইমাম, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ হেফাজতের সদস্য। সকল স্কুল-কলেজের ধর্মপ্রাণ মানুষ হেফাজতের সদস্য। নামাজ, রোজা, হজ-যাকাত হলো হেফাজতের কর্মসূচি। হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়।

বাবুনগরী আরো বলেন, বিশ্বের দুশ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে ফ্রান্স সরকার ব্যঙ্গ করে, কটাক্ষ করে মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়েছে। রাসুলের অপমানের মোকাবিলায় রক্ত সাগর ভাসিয়ে দেয়া হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি কাদিয়ানীদেরকে ‘কাফের’ ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদেরকে মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদেরকে কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণায় কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী জাতীয় সংসদে অবিলম্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর শান-মান রক্ষায় মুসলিম জাতি রক্ত দিতে প্রস্তুত। যতদিন আল্লাহর হাবিবের শানে বেয়াদবি করা হবে, ততদিন আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাব।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো স্থানে নবীর অবমাননা সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশে নবীর দুশমনদের প্রতিহত করা হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আল্লামা জিয়া উদ্দীন বলেন, ‘আমরা রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসায় জমায়েত হয়েছি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আজকের সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত প্রমাণ করে রাসুলের (সা.)-এর জন্য সিলেটবাসী যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’