নিউজ ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। সার্বিক বিবেচনায় এখন এইচএসসি পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরা দুটি পাবলিক পরীক্ষা অতিক্রম করে এসেছে। এদের জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় অনুযায়ী এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এভাবে মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির মত নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসির চূড়ান্ত মূল্যায়ন ঘোষণা করা হবে, যাতে জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থাকবে। তারা এ বিষয়ে তাদের মতামত দেবেন। সে অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। কখন পরীক্ষা নেয়া যাবে বলা কঠিন। এরমধ্যে যথার্থতা বজায় রাখার বিষয়টি ভাবতে হবে। পরীক্ষা গ্রহণ করতে ৩০ থেকে ৩২ কর্মদিবস প্রয়োজন হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে এক বেঞ্চে দুজন বসানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে দ্বিগুন কেন্দ্র প্রয়োজন হবে। প্রশ্নপত্র প্যাকেটজাত করা হয়। নতুন প্যাকেট করারও সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, কেন্দ্র দ্বিগুন করলে আরো জনবল প্রয়োজন হবে। প্রশাসনসহ সবার জনবল বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে। বিষয় কমানো হয়তো যায়, কিন্তু প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্ব রয়েছে। অনেকে এতে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করতে পারবে। কোভিড আক্রান্ত হলে তখন কী হবে। এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। ভারতের পরীক্ষাও আমরা দেখেছি। তিনটি পরীক্ষা নেয়ার পর তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অনেক দেশে পরীক্ষা বাতিল কিংবা স্থগিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে বিষয় বা পত্র কমিয়ে পরীক্ষা নেব, হয়ত সেই বিষয়ে কোনো পরীক্ষার্থীর অনেক ভালো একটা প্রস্তুতি ছিল। সেই পরীক্ষার্থীও মনে করতে পারে যে সে ক্ষতিগ্রস্ত হল। অন্যদিকে আমরা পরীক্ষা শুরু করলাম, তখন যদি কোনো পরীক্ষার্থী কোভিডে আক্রান্ত হয় কিংবা যখন পরীক্ষা নেওয়া শুরু হচ্ছে তখন পরীক্ষার্থী আক্রান্ত হল বা তার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হল, তাহলে সেই পরীক্ষার্থীর কী হবে? সে তো তখন নিশ্চয় পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে পারবে না বা আসা উচিত নয়।

এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার ভর্তির ক্ষেত্রে কি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চ শিক্ষার ভর্তি কিভাবে হবে এখনই বলা সমীচিন হবে না। আলাপ–আলোচনা করে ঠিক করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কিভাবে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থগিত হয়ে গেছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও। এরমধ্যে গত ১ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ জন নিয়মিত, দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে।

অন্যদিকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৯২৯ জন, দুই বিষয়ে ৫৪ হাজার ২২৪ জন এবং সব বিষয়ে ৫১ হাজার ৩৪৮ জন ফেল করেছিলেন। এছাড়া ৩ হাজার ৩৯০ জন প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরও এবার এইচএসসিতে অংশে নেওয়ার কথা ছিল। গতবার পাস করলেও আরও ভালো ফলের জন্য এবার পরীক্ষায় বসতে চেয়েছিলেন ১৬ হাজার ৭২৭ জন শিক্ষার্থী।