নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুরে প্রভাবশালী ফজলুর রহমান ও আসাদ সরকার নামে দুই ব্যক্তির তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটা বন্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। সোমবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বৃ-কাশো গ্রামে ফসলের মাঠে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকার স্থানীয় নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানান, এক শ্রেনীর মুনাফালোভী ব্যক্তি রাজনৈতিক লেবাসে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কৃষকদের বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে বৃ-কাশো মৌজার ২৮১৬, ১৭, ১৮ এবং একই মৌজার ২৮০১ দাগের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছে জমির মালিক প্রভাবশালী ফজলুর রহমান ও আসাদ সরকার নামে ওই এলাকার দুই ব্যক্তি। ক্ষতিগ্রস্থ্ হওয়ার হাত থেকে ফসলি জমি রক্ষা ও বাড়িতে জলাবদ্ধতার রক্ষার জন্য প্রশাসনের উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে কৃষক শহিদুল ইসলাম, সেবক রুস্তম আলী, মতিউর রহমানসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বৃ-কাশো মৌজাতে ওই দুইটি জমিতে পুকুর কাটা হলে ৫শ বিঘা জমির ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। জলবদ্ধতা লেগে থাকবে। জলাবন্ধতা লেগে বাড়িতে পানি উঠবে।

স্থানীয় কৃষক রহিম, বশির, মজিদ বলেন, এলাকায় কৃষি জমিতে পুকুর কাটা বন্ধ না হলে প্রকৃত কৃষষের ভবিষৎ আগামী দিনে অন্ধকার হবে। জমির এই সামনের মুখে পুকুর খনন করা হলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাবে।

তারা আরো বলেন, যার ফলে জমিতে ফসল ফলানো যাবে না। ভবিষতে মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে।। তাদের আয়ের উৎস মাঠে জমি চাষ করে ফসল ফলিয়ে সংসার চালানো এবং ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ যোগানো। কিন্তু বিলের পাশে এবং বিলের মাঝখানে ইতিমধ্যেই কয়েকটি পুকুর আছে। তারপরও যদি এই দুইটি পুকুর নতুন করে খনন করা হয় তাহলে প্রায় সবগুলো জমিতে জলাবদ্ধতা কারণে ফসল ফলানো হবে না।

এব্যাপারে ফজলুর রহমান বলেন, কারো ক্ষতি হয় এমন কিছু করার ইচ্ছা নাই। এমন হলে জমিতে পুকুর কাটা বন্ধ রাখা হবে।

নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত রানা লাবু বলেন, আমার ইউনিয়নে কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে সব ধরণের প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেই ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন করলে পুকুর খননকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।