নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার সব সময় সকল দলের সহযোগিতা চেয়ে আসছে। যে কোনো গঠনমূলক পরামর্শ কিংবা ভুল ধরিয়ে দিলে সেটা গ্রহণ করার সৎসাহস শেখ হাসিনা সরকারের আছে। বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলা করতে প্রতিটি দেশই হিমশিম খাচ্ছে। সরকারও বসে নেই। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কোনো সাজেশন তো বিএনপি রাখছে না, শুধু অন্ধ সমালোচনাকে রুটিন ওয়ার্কে পরিণত করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শেখ হাসিনা সরকার ক্রমশ সক্ষমতা অর্জন করছে। এ পর্যন্ত দেশে সোয়া এক লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মাঝে আল্লাহর রহমতে ৫০ হাজারের বেশি সুস্থ হয়েছে। সংখ্যাগত হিসেবে এটিও কম নয়।

বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি করোনা সংকটের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে সরকারের সমালোচনাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল কিংবা দর্শন হিসেবে নিয়েছে। এতে বিএনপি’র আদৌ জনসমর্থন বেড়েছে কি?’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার শুরু থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিনরাত পরিশ্রম করে সংক্রমণ রোধ, চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহসহ অসহায় কর্মহীন মানুষের সুরক্ষায় কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যসহ জগতের তাবৎ সমৃদ্ধ শক্তির দেশগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমি বলতে চাই কোন দেশের প্রস্তুতি শতভাগ ছিল? কোন দেশের সীমাবদ্ধতা ছিল না? শুধু সমালোচনা করতে হবে বলে আপনারা জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়ে যাবেন?’

‘সরকার তথ্য গোপন করছে’- বিএনপি’র এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি অভিযোগ করেছে সরকার নাকি তথ্য গোপন করছে। প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগের উন্মুক্ত প্রবাহের কালের তথ্য গোপনের কোনো সুযোগ নেই এবং সরকারের সেই ইচ্ছাও নেই। সরকারের নানান সীমাবদ্ধতা আছে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক-নার্স টেকনিশিয়ানসহ ফ্রন্টলাইনে পুলিশ-সেনাবাহিনী জনপ্রশাসন জীবনবাজি রেখে কাজ করছে। সেবা দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। কই বিএনপি তাদের ধন্যবাদ দিয়ে কথা বলে না, তাদের মনোবল যাতে ভেঙে না যায় তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন না। নেতিবাচকতা তাদের এতই গ্রাস করেছে যে তারা দিনের আলোতেই রাতের আঁধার দেখতে পায়।

কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ কালে গণপরিবহনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রী সংকট রয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলছে স্বল্পসংখ্যক। অথচ কিছু পরিবহন অধিক ভাড়া আদায় করছে- এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমি বিআরটিএকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ডাম্পিংসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছি।