নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় তিন গরু-ছাগল চোরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৯টি গরু-ছাগল উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী।

বুথবার (১৯ আগস্ট) পাশের গ্রাম থেকে পশুগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে জামনগর এলাকা থেকে তিন গরু-ছাগল চোরকে আটক করা হয়। তারা হলো, পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গোচর গ্রামের নাজের আলীর ছেলে মামুন (৩০), একই গ্রামের কায়েম উদ্দিনের ছেলে আল মামুন ওরফে কালু (৫০), দাসের চক গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে জামনগর ত্রিমোহিনী গ্রামের নবাব আলীর বাড়িতে চুরি করতে গেলে ধাওয়া দিয়ে গ্রামবাসী প্রথমে দুই গরু-ছাগল চোরকে আটক করে। এসময় গণধোলাই দিলে তারা চুরির কথা স্বীকার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশরাফুল ইসলামকে আটক করে গ্রামবাসী। চুরির পর আশরাফুল ইসলামের কাছে এসব গবাদি পশু সরবরাহ করা হতো বলে জানায় তারা। এরপরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার আশরাফুল ইসলাম ও তাদের প্রতিবেশী স্বজনদের বাড়ি ও দাসের চক বিল থেকে ১১ টি গরু ও ৮ টি ছাগল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া এসব গরু-ছাগলসহ তিন চোরকে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এসময় বুধবার দুপুরে আটকদের পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং উদ্ধার হওয়া গরু জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া গরু মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে উদ্ধার হওয়া গরুর মালিকদের মধ্যে জামনগর পশ্চিম পাড়া গ্রামের ইয়ার আলী, ত্রিমোহিনীর আফাজ আলী, হাঁপানিয়ার বাবলু ও শরিফুল জানান, কোরবানীর ঈদের আগে ও পরে তাদের গরু চুরি হয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হক জানান, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের গরুচোর সহ কিছু গরু-ছাগল আটকের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জামনগর ইউনিয়ন পরিষদে আমার থানার পুলিশ পাঠিয়ে তিন গরু চোরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গরু ছাগল চুরির মামলা প্রক্রিয়াধীন। গরু-ছাগল গুলির প্রকৃত মালিকের খোঁজ করা হচ্ছে। তদন্ত করে এগুলোর সঠিক মালিকের পরিচয় পেলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের হাতে পশুগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।