নিজস্ব প্রতিবেদক: সিংড়ায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের সামনে অপদস্ত ও হুমকি শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আদেশ আলী সরদার।

রোববার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সিংড়া প্রেসক্লাব ভবনে প্রতিদিন বিডি ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে ও সত্য ঘটনা উপস্থাপনের জন্য তিনি লিখিত বক্তব্যে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও ১০নং চৌগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভোলা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মোঃ আদেশ আলী সরদার জানান, ফেসবুক সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সামনে ইউএনওকে অপদস্ত ও হুমকি শিরোনামে আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তিনি আরো জানান, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতেই এই অপচেষ্টা। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে- গত ২৯ মার্চ সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষি হল রুমে অনুষ্ঠিত ” প্রতিমন্ত্রীর নিবার্চনকালীন প্রতিশ্রুতি পুরণকল্পে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছিলাম। সভার শেষ মুহুর্তে টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষে আমি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে সিংড়ায় জাতীয় দিবসের নামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অনিয়ম, দুনীর্তি ও কিছু নীরব চাঁদাবাজির কথা তুলে ধরি।

মোঃ আদেশ আলী সরদার জানান, যে চাঁদাবাজির ভুক্তভোগী আমি নিজেই। আমি একজন ছোট ব্যবসায়ী। সিংড়া বাসষ্ট্যান্ডে অবস্থানরত চলনবিল কুটুম বাড়ির পার্টনার মালিক হিসাবে আমার কাছ থেকে গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদা হিসাবে হোটেল থেকে ২০০ প্যাকেট খাবার দাবি করা হয়। যার বাজার মুল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। আমি ছোট ব্যবসায়ী হিসাবে আমার এ ব্যবসার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোন লাভের মুখ দেখি নাই। তাই বিনয়ের সাথে আমি ৫ হাজার টাকা প্রদান করি। এর পর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২১মার্চ ইউএনও অফিস সুপারের ০১৭১৫১৮২১০১ নম্বর থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি পরে জানতে পারি শুধু আমার কাছ থেকে নয় সিংড়ার ইট ভাটা, স’মিল মালিক, মাছের আড়ৎ সহ সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নীরবে চাঁদা আদায় করা হয়।

আদেশ আলী আরো জানান, আমি সেই সভায় প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে করে বলেছি, জাতীয় দিবসের নামে এই চাঁদার টাকা এ পর্যন্ত কোন সভায় উপস্থাপন করা হয় নাই। আমার কথা শেষ না হতেই নির্বাহী অফিসার আমার উপর রেগে গিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আপনার পক্ষে কাজ করি নাই বলেই আপনি এমন অভিযোগ করছেন। এসময় সভায় উপস্থিত জাহিদুল ইসলাম ভোলা, এম এম আবুল কালামসহ বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে বললে, তিনি তাঁদের উপরও ক্ষিপ্ত হন।এর পর সভা শেষ করার আগে প্রতিমন্ত্রীর নিকট বিষয়টির জন্য নির্বাহী অফিসার ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোঃ আদেশ আলী সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জাতির বিবেক। সেই বিবেক থেকে সত্য ঘটনার সত্য বিষয়টি তুলে ধরবেন।