নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ‘ইউএনও পার্কে’ স্থানীয় লক্ষণহাটী গোলাপ সংঘ নামের একটি সংগঠন এমপি’র সুপারিশ নিয়ে বৈশাখী মেলার আবেদন করেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি।

বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে অনুমতি ছাড়াই ওই পার্কে মেলার আয়োজনের চেষ্টা করলে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় নির্মাণাধীন তোরণ ভেঙ্গে দিয়েছে ইউএনও নাসরিন বানু।

লক্ষণহাটী গোলাপ সংঘের সভাপতি কবির হোসেন শিপলু জানান, উপজেলার প্রায় আট গ্রামের যুবকরা লক্ষণহাটী গোলাপ সংঘের নামে বৈশাখী মেলার আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। গত ২৮ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের পরামর্শ নিয়ে ইউএনও পার্কে পাঁচ দিনব্যাপী একটি বৈশাখী মেলার অনুমতি চেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদনও করা হয়। সাংসদ বকুল তিনদিনের মেলা করার অনুমতি প্রদানের সুপারিশ করেন। কিন্তু ওই আবেদনেই ইউএনও নাসরিন বানু ওই পার্কে মেলার করার অনুমতি দেননি। তিনি পার্কটিকে সংরক্ষিত এলাকা উল্লেখ করে অন্যত্র করার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় এমপিকে জানালে তিনি পার্কের সাথে শুকনো বড়াল নদীর তীরে মেলা করার পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক মেলার আয়োজন করা হয়। ইতোমধ্যে মেলার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেলাকে আকর্ষনীয় করতে লক্ষণহাটী মোড়ে একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। বুধবার দুুপুরে ইউএনও ওই তোরণ ভেঙ্গে দিয়েছেন।

ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, বিধিমোতাবেক তারা অনুমতি চায়নি। আমি ইউএনও পার্কে মেলার অনুমতি দেইনি। তাদের অন্যত্র মেলার আয়োজন করতে বলেছিলাম। তারা করেনি। যেহেতু পার্কের সাথে দিয়েই রেল চলাচল করে, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, তাছাড়াও ওই পার্কে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা নাই এবং মেলায় বেশ লোক সমাগম ঘটে, মেলার সৌন্দর্য্য বর্ধক গাছ রয়েছে সেগুলো নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া পার্ক একটি সার্বজনীনদের জন্য, মেলা হলে সেটি সীমিত হয়ে পড়ে। সে কারণে সেখানে মেলার অনুমতি পেতে পারে না। তাছাড়া খাস জমিতে মেলা করার জন্য কিছু বিধি মানতে হয়, তাও তারা মানেনি। অনুমতি না পেয়ে তারা জোরপূর্বক মেলা করার চেষ্টা করছে। জনগুরুত্বপুর্ণ সড়কে তোরণ নির্মাণের চেষ্টা করেছে। মঙ্গলবার মৌখিকভাবে তাদের ভাঙ্গতে বলেছিলাম। তারা ভাঙ্গেনি তাই সেগুলো
আমি ভেঙ্গে দিয়েছি।

এব্যাপারে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, মেলার জন্য আমি সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু আইনসিদ্ধ না হলে তো ইউএনও তা দিতে পারেন না।